শতবর্ষী বাড়ির ভূত
ঢাকার পুরনো এলাকা বিক্রমপুরে একটা শতবর্ষী বাড়ি আছে, নাম “নবাববাড়ি”। কেউ তেমন আসেনা এখানে, কারণ কথিত আছে, সন্ধ্যার পর বাড়িটার ভেতরে কিছু একটা ঘটে। রাফি, শহরের এক তরুণ সাংবাদিক, পুরনো কাহিনী সংগ্রহের নেশায় এসেছে। লোকমুখে শোনা গল্পগুলোর সত্যতা যাচাই করা তার উদ্দেশ্য। সন্ধ্যা ঘনিয়ে আসে। বাড়ির বিশাল দরজা দিয়ে ঢুকতেই ভেতরের অদ্ভুত শীতলতা রাফির গায়ে কাঁটা দেয়। চারপাশ অন্ধকার, শুধু দূরে কোথাও পুরনো একটা প্যান্ডেল বাতি জ্বলছে। কিছুক্ষণ ঘুরে বেড়ানোর পর, রাফি টের পায় ঘরের এক কোণ থেকে কারো ফিসফিসানি ভেসে আসছে। কণ্ঠটা ভীষণ অচেনা, কিন্তু পরিচিতও মনে হয়। রাফি শব্দের দিকে এগিয়ে যায়, হঠাৎ তার চোখে পড়ে পুরনো আয়নায় এক অদ্ভুত দৃশ্য—আয়নায় একজন বৃদ্ধা বসে আছে, লম্বা সাদা চুল, শুকনো শরীর। সে একমনে কাঁপা কাঁপা হাতে খাম বানাচ্ছে। হঠাৎ তার চোখে চোখ পড়ে রাফির। ঠোঁটের কোণে অদ্ভুত হাসি ফুটে ওঠে বৃদ্ধার। “তুমি রাফি, না? তুমি এসেছো! ঠিক যেমনটা তারা বলেছিল!” রাফির বুকের ধুকপুকানি থমকে যায়। সে পালাতে চাইছে, কিন্তু দরজার পথ হঠাৎ করেই বন্ধ হয়ে যায়—আয়নার বৃদ্ধা ঠিক তার পেছনে দাঁড়িয়ে!
